বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন


হেলাল উদ্দিন :- কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ী প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে শীতের আগাম বার্তায় রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন গাছিরা। শীতের ভরা মৌসুমে খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য দিন রাত পরিশ্রম করছেন উপজেলার গ্রাম গঞ্জরের গাছিরা । আগাম শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় খেজুর রস সংগ্রহের কাজ করছেন অনেকেই।

সূর্য্যের আলো যখন নিভু নিভু গাছিরা তখন কোমড়ে দড়ি বেঁধে হাতে দা নিয়ে খেজুর গাঠে উঠে দা দিয়ে গাছ চাছা-ছেলা করিয়ে গাছে নল বসিয়ে কলস বেধে দেন। পরের দিন সূর্য্য উঠার আগেই প্রতিটি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে। শীতের মৌসুমে খেজুরের রস দিয়ে নবান্ন উৎসবে মেতে উঠেছে গ্রাম গঞ্জের মেয়েরা।

খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরী করছে বিভিন্ন ধরেন পিঠা পাইস, ফিরনি, ভাপা পিঠা, পুলি পিঠা, পাঠিসাটা পিঠা। গ্রাম গুলোতে খেজুরের সু স্বাদু রস খেতে ভির জমাচ্ছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। শীতের সকালে গ্রাম অঞ্চলের বাড়ীতে মেহমান এলে খেজুর রসের নানান ধরনের পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন করছে। এ রস অত্যন্ত সু স্বাদু ও মানব দেহের উপকারিতার কারনে মানুষের কাছে অতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

উপজেলার কুটিচন্দ্রখানার হরিরপাঠের গাছি রহিম মিয়া জানান, আগের মত আর খেজুরের গাছ নেই। একাব্বার আলী (৬৫) বলেন আমি ৪০ বছর ধরে খেজুর গাছ কাটি। আগের মত আর গাছে রস নেই। এবার আমি ৩৭টি গাছ কাটছি। চন্দ্রখানা গ্রামের
হোসেন আলী বলেন এবার আগাম শীত হওয়ায় আশা করছি গত বছরের চেয়ে এবার বেশি লাভবান
হবো।

একটি খেজুরের গাছ থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ কেজি রস দিতো কিন্তু প্রাকৃতিক কারনে গাছ থেকে ৩/৪ কেজি রস পাওয়া যায় না। শীত যত বেশি হবে রস ততই বারবে। রস সংগ্রহের পর সে আগুনে জ্বাল করে গুড় তৈরী হয় ।

যা বাজারে বর্তমান ১২০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হয়। বিদ্যাবাগিশ গ্রামের আইন উদ্দিন, দাশিয়ার ছড়ার রহিম বাদশা, তোতা মিয়া বলেন, প্রতি বছরের তুলনায় এবার শীত আগাম হওয়ায় খেজুর গাছ থেকে প্রচুর রস সংগ্রহ হচ্ছে। উপজেলার জীবন বৈচিত্রের সংরক্ষন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের উদাসীনতার কারণে গ্রামে খেজুর গাছ অনেকটা বিলুপ্তি হওয়ার পথে। কিন্তু গতবারের তুলনায় এ বছরে খেজুরের রস বেশি হবে বলে জানিয়ে অনেক গাছিরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন