শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৬:১৮ অপরাহ্ন


ভারতের কেরালা রাজ্যে মসজিদ প্রাঙ্গণে হিন্দু এক জুটির বিয়ে আয়োজন করে মসজিদ কর্তৃপক্ষই। শুধু বিয়েই নয়, এ নব দম্পতিকে বিয়ে উপলক্ষে ১০টি স্বর্ণমুদ্রা, নগদ দুই লাখ টাকা, ফ্রিজ, টিভি উপহারও দিয়েছে মসজিদ কমিটি। চার হাজার লোকের আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করেন তারা।
আলাপুঝার চেরুভাল্লি মুসলিম জামাত মসজিদ এমনই ব্যতিক্রমী বিয়ের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৯ জানুয়ারি) এ বিয়ের আয়োজন করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মসজিদ কমিটি আয়োজন করে এ বিয়ের। সে অনুযায়ী মসজিদকেও সাজানো হয় নান্দনিক রূপে। মসজিদ চত্বরে শরৎ এবং অঞ্জু নামে ওই জুটির বিয়ে পড়ান এক পুরোহিত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুই সম্প্রদায়েরই অতিথিরা। তাদের জন্য ছিল কেরালার ঐতিহ্যবাহী নিরামিষ ভোজও।

জানা গেছে, কনে অঞ্জুর পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। সে কারণে মসজিদ কমিটির কাছে সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছিলেন অঞ্জুর মা। মেয়ের বিয়ের সব আয়োজন করার অনুরোধ করেন তিনি। অসহায় এ মায়ের অনুরোধে সাড়া দেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ। বিয়ে আয়োজনের পাশাপাশি চার হাজার লোকের খাওয়া-দাওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়। এখানেই শেষ নয়, অঞ্জুকে বিয়ের উপহার হিসেবে ১০টি স্বর্ণমুদ্রা এবং দুই লাখ টাকা দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি নবদম্পতির ঘরের আসবাবপত্র হিসেবে ফ্রিজ, টিভিও দিয়েছে মসজিদ কমিটি।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, অঞ্জুর বাবা অশোকান পেশায় ছিলেন স্বর্ণকার। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তিনি। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে ১৭ বছর আগে বাড়ি, জমিজমা বিক্রি করে দেন এই দম্পতি। পরে তারা ভাড়া বাসায় থাকা শুরু করেন।

গত বছরের অক্টোবরে মসজিদ কমিটির কাছে একটি আবেদন করেন অঞ্জুর মা বিন্দু। ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছি। মাসিক বেতন পাই ৭ হাজার রুপি। এর মধ্যে বাড়ি ভাড়াই চলে যায় আড়াই হাজার রুপি। বাকি টাকা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। এমতাবস্থায় আমার মেয়ের বিয়ে দেয়ার সাধ্য নেই। এজন্য আমি মসজিদ কমিটির সাহায্য চাই।

সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়, বিয়ে শেষে মসজিদে প্রবেশ করেন প্রধান ইমাম রিয়াসউদ্দিন ফাইজির আশীর্বাদ নেন নবম্পতি।

মসজিদের সচিব নাজিমুদ্দিন বলেন, অঞ্জুই প্রথম নারী যিনি এই মসজিদে প্রবেশ করলেন। তিনি বলেন, সব ধর্মই অপরকে ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়েই আমরা বিয়ের আয়োজন করেছি।

ফেসবুকে নবদম্পতি শরৎ এবং অঞ্জু, তাদের পরিবার এবং মসজিদ কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। মুখ্যমন্ত্রী বিয়েতে প্রধান অতিথি ছিলেন। তিনি বলেছেন, কেরালা সবসময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এমন সুন্দর উদাহরণ বহন করে এসেছে। এটা বজায় রাখতে হবে।

ফেসবুকে শরৎ-অঞ্জুর বিয়ের ছবি শেয়ার করে বিজয়ন নামে একজন লিখেছেন, এই বিয়ে এমন সময় হলো যখন দেশে ধর্মের নামে মানুষের মধ্যে বিভাজন ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কেরালা ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং আমরা ঐক্যবদ্ধই থাকব।

পোস্টটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন