বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে বিতর্কিত কয়েকজনকে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন ও সমর্থন দেয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। কার সুপারিশে বিতর্কিতরা মনোনয়ন পেয়েছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন মেয়র নাছির।

সোমবার (০২ মার্চ) দুপুরে নগরীর রিমা কমিউনিটি সেন্টারে যুব লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় নাছির বলেন, আসলে আমরা তো কোনো কিছু জানি না। এই কাউন্সিলর প্রার্থী কারা মনোনয়ন দিয়েছেন, এটা কি আমরা জানি? আমাদের জানামতে চট্টগ্রামের কেউ এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত নয়?

আজকে তাহলে যারা এদেরকে রেকমেন্ডেশন করেছে, তারা কারা? তারা কী জেনে-শুনে করেছে? তারা জেনেশুনে কনেনি। নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তারা এ কাজগুলো করেছেন। তারা যে কাজ করেছেন এর দ্বারা কি সংগঠনের কল্যাণ হবে? মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে?

মেয়র নাছির আরো বলেন, এই জনপ্রতিনিধিগুলো কি মানুষের কোনো কল্যাণ করতে পারবে? তারা তো জনপ্রতিনিধি হতে যাচ্ছে, বিগত দিনে তাদের কী কর্মকাণ্ড ছিল? এখনও তারা তো বিতর্কিত। তাহলে তারা কীভাবে মনোয়ন পেলেন? আমি এই কথা বলতে চাই না। আমি যদি কথা বলি, এই কথার সূত্র ধরে অন্য কথা হয়তো অনেকে বলার চেষ্টা করবেন।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্বে মনোনয়ন বোর্ড যে মনোনয়ন প্রদান করেছেন সেটাই শিরোধার্য। এবং সেটা নিয়ে কাজ করছি, কাজ করব। কাজ করে প্রমাণ দিব আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শতভাগ অনুগত এবং জাতির জনকের আদর্শ অন্তরে ধারণ করি।

নিজের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গ টেনে নাছির বলেন, আমি হঠাৎ করে চট্টগ্রাম আত্তয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়নি। ১৯৬৯ সালে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে আন্দোলনে শরিক হয়েছি। ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যার পর চট্টগ্রাম কলেজে পাঁচজনকে সাথে নিয়ে মিছিলের চেষ্টা করেছি। আমি যে আজকে বেঁচে আছি আল্লাহর রহমত, প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার অবদান। চট্টগ্রাম মাটি থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল ফারুদ-রশিদকে উৎখাত করেছি, ফ্রিডম পার্টি, জামায়াত-শিবিরকে উৎখাত করেছি।

যুবলীগের নেতা কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যারা সংগঠনে আছি তারা একদিন সরে যাবো। আমাদের সরে যাওয়ায় কাল্পনিক শূন্যতা তৈরি হবে। এ পদগুলো পূরণ করবেন আপনারা। জননেত্রীর একজন কর্মী হিসেবে আমাদের চিন্তা করতে হবে। আমরা যেভাবে রাজনীতি করছি তাতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে উনি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেছেন। আমরা ওনার একজন কর্মী হিসেবে তা অন্তরে ধারণ করি।

যুবলীগ চেয়্যারম্যান শেখ ফজলে সামস পরশের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন মাহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমানসহ যুব লীগের কেন্দ্রীয়, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন