শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৫:১৮ অপরাহ্ন


 

রাকিবুল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বাড়তে থাকায় জেলার ৫ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকলেও বানভাসীদের মাঝে তীব্র খাবার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলোর দুর্ভোগও আরও বেড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে করতোয়া নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়া নদীর পানি ৩০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা গেছে, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী, হলদিয়া ও জুমারবাড়ী, সাঘাটা ইউনিয়নের পালপাড়া, চিনিরপটল, চকপাড়া, পবনতাইড়, থৈকরপাড়া, বাঁশহাটা, মুন্সিরহাট, গোবিন্দি, নলছিয়াসহ ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনা নদীর ডান তীরঘেঁষা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি চরম হুমকির মুখে রয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর, কাপাসিয়া, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর ও শ্রীপুর গ্রাম বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এ উপজেলার ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় রয়েছে চরাঞ্চলের মানুষ। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়া এসব মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও পানি বাড়ার সাথে সাথে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ উপজেলার ২০টি গ্রাম পানির নিচে রয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় করতোয়া নদীবেষ্টিত সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে গত কয়েক বছরের মতো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যেকোনো সময় দেখা দিতে পারে ভয়াবহ বন্যা। তাই বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন জেলার সাত উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ।

জেলার সার্বিক বিষয় নিয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য সরকারি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তাদেরকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা সেবা দেয়া হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন