বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন


রাকিবুল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের নার্স ও আয়াকে বকশিস না দেওয়ায় অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ার ঘটনায় এক শিশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত শনিবার শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। শনিবার দুপুরের পর ঘটনাটি ঘটলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। গতকাল রবিবার (০৯ আগস্ট) বিকেলে নিহত শিশুটির স্বজনরা সাংবাদিকদের এবিষয়টি জানান।

পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার দুপুরে শিশুটিকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটির শ্বাসকষ্ট হওয়ায় কিছুক্ষণ পর তাকে অক্সিজেন দেয়া হয়। এসময় কর্তব্যরত নার্স ও আয়ারা শিশুটির বাবার কাছে বকশিস দাবি করেন। তখন শিশুটির বাবা মোশারফ হোসেন নার্স ও আয়াদের জোহরের নামাজ পড়ে এসে বকশিস দেওয়ার কথা বলেন। নামাজ পড়ে আসতে বিলম্ব হওয়ায় নার্স ও আয়ারা শিশুটির মা, খালা, দাদি ও নানির কাছে বকশিশ দাবি করেন। শিশুটির মা ও খালা তাদের জানান শিশুর বাবা নামাজ থেকে এলেই বকশিস দেওয়া হবে। কিন্তু নার্স ও আয়ারা তাতে রাজি না হয়ে শিশুটির নাক থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেন। অক্সিজেন খুলে দেওয়ার সাথে সাথে শিশুটির শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তখন শিশুটির মা, খালা, দাদি নার্স ও আয়াদের হাতে-পায়ে ধরে আবারও অক্সিজেন লাগাতে বলেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে নার্স ও আয়ারা দূর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে শিশুটি মারা যায়।

শিশুটির মা আনিছা বেগম বলেন, আমরা একাধিকবার নিষেধ করার পরও নার্স ও আয়া জোর করে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই আমার সন্তানের মৃত্যু হয়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

শিশুটির বাবা মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, হাসপাতালের নার্স ও আয়ার অবহেলায় আমার সন্তানের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আমি দোষীদের বিচার দাবি করছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নার্স রিমা আক্তার বলেন, বকশিস চাওয়ার ঘটনা সত্য নয়। মূলত অন্য একটি গুরুতর অসুস্থ শিশুর জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারটি স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আগে থেকেই শিশুটির অবস্থা খারাপ ছিলো। তাকে রংপুর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিলো।

এ ব্যাপারে জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. নবিউর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে রবিবার ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এতে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. খায়রুন্নাহারকে প্রধান করা হয়েছে। কমিটিতে আবাসিক চিকিৎসক ডা. হারুনর রশিদ ও মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুমন কুমার প্রামাণিককে সদস্য করা হয়েছে। তদন্তে হাসপাতালের কারো গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হারুন অর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে জানান, অক্সিজেন দেয়ার ব্যাপারে বকশিস নেওয়ার ঘটনাটি সঠিক নয়। এর আগে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। আর অক্সিজেন দেয়া নিয়ে বকশিস নেয়ার প্রশ্নই আসে না।

তিনি বলেন, শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় রংপুর থেকে ফেরত আনা হয়। অবস্থা খারাপ থাকায় শ্বাসকষ্টে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবুও যেহেতু অভিযোগ উঠেছে বিষয়টি তদন্ত করে অবহেলা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একইভাবে শনিবার সকালে গাইবান্ধা সদর উপজেলার উজির ধরণী গ্রামের ইয়াকুব আলীর দুই মাস বয়সের শিশুর পরিবারের কাছ থেকে বকশিশ না পাওয়ায় তারও নাক থেকে অক্সিজেনের পাইপ খুলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই শিশুটিও অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টে হাসপাতালে মারা যায় বলে পরিবার দাবি করে।

এ ব্যাপারে আবাসিক চিকিৎসক বলেন, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এই অভিযোগের সত্যতা নেই। এটি তদন্তের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না।

পোস্টটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন