বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন


রাকিবুল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ঠাঁই না পাওয়ায় রাস্তার পাশে এক পরিত্যক্ত ঘরে সন্তান প্রসব করেছেন এক প্রসূতি। বুধবার রাতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে বিতাড়িত হয়ে শহরের ডিবি রোডে সন্তান প্রসব করেন তিনি। পরে পুলিশের সহযোগীতায় অসুস্থ অবস্থায় মা ও শিশুকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, প্রসব বেদনা উঠলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া থেকে সিএনজিযোগে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে রওনা দেন তারা। সেখানে পৌঁছার পর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা সেলিনা বেগম কোন পরীক্ষা ছাড়াই অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে অন্যত্র যেতে বলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও কর্ণপাত না করে উল্টো গালিগালাজ করে বের করে দেয়া হয় তাদের। পরে বিতাড়িত হয়ে শহরের ডিবি রোডের পরিত্যক্ত ঘরে মেয়ে সন্তান প্রসব করেন ঐ প্রসূতি মা। এরপরে এলাকাবাসী ও পুলিশের সহযোগীতায় অসুস্থ অবস্থায় মা ও শিশুকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা সেলিনা বেগম জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ার ভয়ে প্রসূতিকে ভর্তি করা হয়নি। তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রসূতি মা ও শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ রয়েছেন।

এ ঘটনার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধা পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, রাস্তায় সন্তান প্রসবের ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এর আহ্বায়ক করা হয়েছে জেলা কনসালটেন্ট ডা. ফারুক আজম নুরকে। তদন্ত কমিটিকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসবের একমাত্র ভরসাস্থল মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হলেও এর আগে গত ৬ই এপ্রিল সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা মিষ্টি আকতারকে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দেন কেন্দ্রের সিনিয়র স্বাস্থ্যকর্মী তৌহিদা বেগম। কেন্দ্রের কয়েক’শ গজ দূরেই অটোরিকশায় সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। একের পর এক এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও বিশিষ্টজনরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন