সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন


রাকিবুল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি: বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাব পড়েছে উত্তরের জেলা গাইবান্ধায়। এর ফলে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। এমন বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের রোপা আমন ধান এবং শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলাদির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকের ক্ষেতে আমন ধান ও অন্যান্য ফসলাদির ক্ষয়-ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।

জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গাইবান্ধা জেলার সর্বত্র শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়ে শনিবার পর্যন্ত গুড়িগুড়ি বৃষ্টির সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে দমকা হাওয়া। হঠাৎ করে আবহাওয়ার এমন বিরূপ আচারণে কৃষকদের রোপা আমন ধানের গাছগুলো হেলে পড়েছে পানির উপরে। এছাড়াও সম্প্রতি মাঠজুড়ে শীতকালী শাক-সবজি বোনা হয়েছিলো। নিম্নচাপের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সেগুলোও ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষকরা।

এদিকে, কৃষি নির্ভশীল গাইবান্ধা জেলায় গত মাসে বয়ে গেছে ভয়াবহ বন্যা। এ বন্যায় নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের রোপা আমন ধানসহ হাজার হাজার হেক্টর ফসলাদির ক্ষতি হয়েছে। এসময় উঁচু এলাকার আমন ধানের ক্ষেতগুলো আংশিক ক্ষতি হলেও অধিকাংশ ক্ষেতের ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে ওইসব আমন ক্ষেতে ধান বের হতে শুরু করছিলো। এরই মধ্যে নিম্নচাপের প্রভাবে ধান গাছগুলো হেলে পড়েছে পানির উপরে। হেলে পড়া এসব ফসল ঘরে তোলা সম্ভব নয় বলে ধারণা করছে প্রান্তিক কৃষকরা। দফায় দফায় এমন দূর্যোগের কবলে কৃষকরা অপূরণীয় ক্ষতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে এমন দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

সাঘাটা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মহির উদ্দিন ব্যাপারী বলেন, কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া বন্যায় সর্বশান্ত হয়েছি। এটি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ঋণ করে ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করাসহ শাক-সবিজ চাষাবাদ করেছিলাম। ফের বৈরী আবহাওয়ায় এসব ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান স্টার বাংলা’কে বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কবল থেকে কৃষকরা যেন কিছু ফসলের রেহাই পায় সে বিষয়ে তাদের সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
পোস্টটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন