মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৩১ অপরাহ্ন


রাকিবুল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার রংপুর সুগার মিলের সাহেবগঞ্জ বাদগা ফার্মের জমিতে বসতি স্থাপনকারী সাঁওতালদের উচ্ছেদ ও ৩ সাঁওতালকে হত্যার চার বছর আজ। (৬ নভেম্বর) এই দিনে ঘটনাটি ঘটনার ৪ বছর হতে চললেও এখনও শেষ হয়নি বিচার কাজ।

এদিকে উচ্ছেদকৃত জায়গায় সাঁওতালরা আবারও বসতি স্থাপন করে চাষাবাদ করলেও এ বিষয়ে নীরব জেলা প্রশাসন ও মিল কর্তৃপক্ষ। তবে আবারও উচ্ছেদ আতঙ্ক এবং ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কায় আছেন সাঁওতাল আদিবাসীরা। আর এজন্য সরকারকেই দুষছেন বিশিষ্টজনরা।

মামলার বিবরণ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের রংপুর সুগার মিলের বিরোধপূর্ণ সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের ১৮৪২ একর জমিতে বসতি স্থাপনকারী সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে সুগার মিল কর্তৃপক্ষ। উচ্ছেদের সময় সাঁওতালদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পুলিশ ও সুগার মিল কর্তৃপক্ষের। জ্বালিয়ে দেয়া হয় সাঁওতালদের ঘরবাড়ি। চলে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা। এতে নিহত হন ৩ সাঁওতাল। আহত হন অনেকে।

ঘটনার পর সাঁওতালদের পক্ষ থেকে ১৬ নভেম্বর ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার দুই বছর পর গত বছরের ২৮ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

তবে সেসময় সাঁওতালরা অভিযোগ করেন, মূল আসামিদের বাদ দিয়ে মনগড়া চার্জশিট দিয়েছে পিবিআই। পরবর্তীতে ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দাখিল করলে আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলায় মূল আসামিদের বাদ দেয়ায় এখনও তারা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছেন বলে অভিযোগ সাঁওতালদের।

সেসময় উচ্ছেদের শিকার সাঁওতাল আদিবাসী ও বাঙালিরা চলতি বছর উচ্ছেদকৃত জায়গায় পুনরায় বসতি স্থাপন করে প্রায় ১৪শ’ একর জমিতে চাষাবাদ করেছেন। তবে উঠতি পাকা ধান কাটতে বাঁধা ও উচ্ছেদ আতঙ্কে আছেন তারা।

সাঁওতাল হত্যা মামলার বাদী থমাস হেব্রম বলেন, মূল আসামিদের বাদ দিয়ে পিবিআইয়ের দেয়া চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করার পর প্রায় এক বছরেও সিআইডির তদন্তের কোনো অগ্রগতি নেই। সুষ্ঠু বিচার না পেলে আরও জোরালো আন্দোলন করা হবে।

সাহেবগঞ্জ ভূমি উদ্ধার কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ-কে বলেন, মামলার মূল আসামি গোবিন্দগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাপমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুলসহ মামলার এজাহারভুক্ত ৩৩ আসামিকে গ্রেফতারসহ আদিবাসীদের জন্য স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠনসহ সরকারকে ৭ দফা দাবি জানানো হয়েছে। আমাদের দাবি আদায় করতে আমরা সব ধরনের অন্দোলনের জন্য প্রস্তুত।

আপরদিকে উচ্ছেদকৃত জায়গায় সাঁওতালদের আবারও বসতি ও চাষাবাদের বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি জেলা প্রশাসন ও রংপুর সুগার মিল কর্তৃপক্ষ।

জেলা নাগরিক পরিষদ ও আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, আশ্রয়হীন সাঁওতালরা নিরুপায় হয়ে পুনরায় উচ্ছেদকৃত জায়গায় গিয়ে বসতি ও চাষাবাদ শুরু করেছে। বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সরকারের নীরবতা ও দীর্ঘসূত্রিতাই দায়ী।

আবারও তাদের উচ্ছেদ করতে গেলে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটবে, যা কাম্য নয়। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে শান্তিপূর্ণ সমাধান করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
পোস্টটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন