বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন


মফিজুর রহমান, মহেশখালী প্রতিনিধিঃ মহেশখালীতে বাণিজ্যিকভাবে পান চাষ করে স্বাবলম্বি হয়েছে অনেক কৃষক। বছরের পর বছর পান চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন এ এলাকার কৃষকেরা। যেমন পুঁজি, তেমন আয়, পান চাষ দেখতে আসলে সহজ চাষাবাদ নয়, পান চাষের সঙ্গে অন্য সাথী ফসলের চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষকেরা। তাই দিন দিন পান চাষ বেড়ে চলেছে।

চলতি মৌসুমে পান চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকেরা ভেজায় খুশি। মহেশখালীতে মিষ্টি পানের চাষ হয়। মিষ্টি পান খেতে অসাধারণ সু—স্বাদু হওয়ায় সাধারণ মানুষ মিষ্টি পান খেতে ভালবাসে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক কক্সবাজার—মহেশখালীর পার্বত্য পাহাড়ি অঞ্চলের জমিতে সমতল এলাকা জুড়ে পান চাষ করেছেন, ফলন ও ভাল হয়েছে। পান চাষের পরে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষে ধীরে ধীরে পরিধিও বাড়চ্ছে এ এলাকায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহেশখালীর পার্বত্যাঞ্চলের জমিতে, পাহাড়ের সমতল ভূমিতে উপজেলার হোয়ানক, কালারমারছড়া, শাপলাপুর, ছোট মহেশখালী, বড় মহেশখালী, নতুন বাজারসহ পুরো উপজেলা জুড়ে অসংখ্য কৃষক পান চাষের সাথে জড়িত রয়েছে। এখানকার অধিকাংশ কৃষক পান চাষ করেন। তবে কিছু কিছু এলাকায় স্থায়ীভাবে পান চাষ হয়না। তবে কৃষকেরা বলেছেন, এ এলাকায় পান চাষ ভালো হওয়ায় প্রতি বছর পান চাষীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। আমাদের এলাকায় প্রতি মৌসুমেই কৃষকেরা মিষ্টি পান বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। এখানে বাড়তি সুবিধাটা হল পান চাষের পরে সাথী ফসল হিসেবে মুলা, মরিচ, সিম,আলুসহ কয়েক প্রকার সবজির চাষ করা যায়। এতে কৃষকরা অধিক লাভবান হয়। উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নে ধান ক্ষেতের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পান চাষ করেছেন কৃষকরা। সপ্তাহে দু’বার পান বাজার বসে পুরো উপজেলায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা পান কিনে ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনযোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছে মহেশখালীর মিষ্টি পান। মহেশখালীতে উৎপাদিত পান অধিক মিষ্টি ও সু—স্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন বাজারে এর চাহিদা প্রচুর। পানের আগা কেটে রোপনের মধ্য দিয়ে পান চাষ করা হয়। প্রতিটি পানের বিরা প্রকারভেদে ৪শ থেকে ৫শ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
মহেশখালী উপজেলা উপ—সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জোবাইদা আকতার বলেছেন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় মুহর্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান, নগদ অর্থ, বিভিন্ন সারসহ কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায় মিষ্টি পান চাষিদের প্রশিক্ষণ ও নানা ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ফলে কৃষকরা পান চাষে লাভের মুখ দেখছেন। তিনি আরও বলেন, পান উৎপাদনে ঝুঁকি কম, এছাড়া পান চাষিরা সাথী ফসল হিসেবে আলু, মূলা, মরিচ, সিমসহ কয়েক প্রকার ফসল উৎপাদন করে বাড়তি টাকা আয় করার সুযোগ পাচ্ছে। এর সাথে সাথী ফলস হিসেবে অন্যান্য ক্ষেত করায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
পোস্টটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন